চাঁদপুর, বুধবার, ৯ জুন ২০২১, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ২৭ শাওয়াল ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
ক্রীড়ামোদী বঙ্গবন্ধু
এইচএম জাকির
০৯ জুন, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু রাজনীতির মাঠেই নয়, খেলার মাঠেও ছিলেন আকর্ষণীয় গুণাবলির অধিকারী। তারুণ্যে রাজপথে মিছিল আর পরিপূর্ণ রাজনীতিক হওয়ার আগে তিনি অন্য দশ কিশোরের মতো খেলার মাঠকেই বেশি ভালোবাসতেন। আর তাই প্রিয় ফুটবল নিয়ে দুরন্তপনায় মেতে উঠতেন। কৈশোরে ফুটবলার হিসেবে তাঁর খ্যাতির কোনো ঘাটতি ছিলো না। প্রতিযোগিতামূলত ফুটবল আসরের তিনি নিয়মিত এক কুশীলব ছিলেন। ভালো ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে কৈশোরে তিনি পুরস্কারও পেয়েছেন। স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসার কমতি ছিলো না তাঁর। খেলোয়াড়রদের দেখলেই দারুণ অনুপ্রেরণায় বলে উঠতেন, 'ভালো খেলতে হবে কিন্তু। দেশের মান রাখতে হবে।'



 



নিজে খেলতেন বলে ফুটবল খেলাকেই বেশি পছন্দ করতেন বঙ্গবন্ধু। অনেকেই শুনে অবাকও হতে পারেন, বঙ্গবন্ধু নিজ অঞ্চল গোপালগঞ্জ এবং ঢাকা শহরে রীতিমতো প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলেছেন। গোপালগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াকালে তিনি ফুটবল ও ভলিবল খেলতেন। তৎকালীন মহকুমা টিমেও খেলার রেকর্ড রয়েছে তাঁর। ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট অনেকেই এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি সর্বশেষ ঐতিহ্যবাহী ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লীগে খেলেছেন। আর এ কারণেই তাই আজীবন এই ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর ছিলো একেবারে নাড়ির সম্পর্ক। ওয়ান্ডারার্স ক্লাব সূত্রে জানা গেছে তিনি এই ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি কলকাতা চলে গেলে আর মাঠে খেলতে নামেননি। কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়া অবস্থায় তিনি কলকাতার বিখ্যাত দুই ক্লাব এরিয়ান্স ও মোহামেডানে খেলার প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। দেশে ফিরে তিনি ঢাকার একটি শৌখিন ক্লাবে কিছুদিন খেলে যোগ দেন ঐতিহ্যবাহী ওয়ান্ডারার্সে।



 



বঙ্গবন্ধু ছিলেন রাজনীতির ময়দানের অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব, বাঙালি জাতির জনক, পথপ্রদর্শক, মুক্তিদাতা, সফল রাষ্ট্রনায়ক। বঙ্গবন্ধু এসব পরিচয় ছাপিয়েও ছিলেন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রাঞ্জল ভাষায় লিখেছেন আত্মজীবনী। কারাগারের প্রকোষ্ঠে বসে লিখেছেন নিজের গল্প। তাঁর লেখা ভ্রমণকাহিনী হার মানিয়ে দেয় অনেক সাহিত্যিককে। বঙ্গবন্ধুর সাফল্য ছিলো খেলার মাঠেও। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় খেলা ছিলো ফুটবল। স্কুলজীবনেই তিনি গোপালগঞ্জ জেলা ফুটবল দলে নাম লিখিয়েছিলেন। মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি অল্পদিনের মধ্যেই ওয়ান্ডারার্সে জায়গা করে নেন। সে সময় দেশের সেরা ফুটবলাররাই ওয়ান্ডারার্সে খেলার সুযোগ পেতেন। চলি্লশ-এর দশকে ওয়ান্ডারার্সের হয়ে ঢাকা গিয়েও ফুটবল খেলা শুরু করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু ১৯৪০ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত টানা আট বছর ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের জার্সি গায়ে স্ট্রাইকার পজিশনে খেলেছেন। ১৯৪৩ সালে বগুড়ায় আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে বঙ্গবন্ধুর অধিনায়কত্বে শিরোপা জিতেছিলো ওয়ান্ডারার্স।



 



পুরাণ ঢাকার কলতাবাজার ও চকবাজারের বাসিন্দারা মিলে ১৯৩৭ সালে গড়ে তোলেন ঢাকা ওয়ান্ডারার্স। অল্পদিনের মধ্যেই এটি দেশের জনপ্রিয় ক্লাবে পরিণত হয়। ফুটবল-হকিতে গঠিত হয় শক্তিশালী দল। এই ক্লাবই ১৯৫০, ১৯৫১, ১৯৫৩, ১৯৫৪, ১৯৫৫, ১৯৫৬ ও ১৯৬০ সালে ঢাকা ফুটবল লিগের শিরোপা জিতেছিলো। পঞ্চাশের দশকে ওয়ান্ডারার্সের টানা চারবার লিগ শিরোপা জেতার রেকর্ড আজও দেশের ফুটবলের এক দুর্দান্ত ইতিহাস হয়ে আছে। তখন ক্লাবটির এমন শক্তিশালী হওয়ার পেছনে অগ্রণী ভূমিকা ছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে সে সময় দেশের শীর্ষ ক্লাবটি পেয়েছিলো শিরোপার স্বাদ।



 



বঙ্গবন্ধুর ফুটবলপ্রেম উঠে এসেছে তাঁর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেও। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থের প্রথমদিকে বলা হয়েছে_'ছোট সময়ে আমি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম। খেলাধুলা করতাম, গান গাইতাম ...। সেবা সমিতির কাজ করতাম। ... ফুটবল, ভলিবল খেলতাম। খুব ভালো খেলোয়াড় ছিলাম না। তবুও স্কুলের টিমের মধ্যে (আমার) ভালো অবস্থান ছিলো।' এ গ্রন্থের ১৪ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু নিজ বয়ানে বলেছেন, 'খেলাধুলার দিকে আমার খুব ঝোঁক ছিলো। আব্বা আমাকে বেশি খেলতে দিতে চাইতেন না। কারণ আমার হার্টের ব্যারাম হয়েছিলো। আমার আব্বাও ভালো খেলোয়াড় ছিলেন। তিনি অফিসার্স ক্লাবের সেক্রেটারি ছিলেন। আর আমি মিশন স্কুলের ক্যাপ্টেন ছিলাম। আব্বার টিম ও আমার টিমের যখন খেলা হতো তখন জনসাধারণ খুব উপভোগ করতো। আমাদের স্কুল টিম খুব ভালো ছিলো। মহকুমায় যারা ভালো খেলোয়াড় ছিলো, তাদের এনে ভর্তি করতাম এবং বেতন ফ্রি করে দিতাম।' এই হলো বঙ্গবন্ধুর ক্রীড়াজীবন আর ক্রীড়ার প্রতি তীব্র অনুরাগের দৃষ্টান্ত।



 



খ্যাতনামা সাবেক ফুটবলার গজনবী বঙ্গবন্ধুর খেলা নিজ চোখে দেখেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, 'রাজনীতিতে ব্যস্ততার কারণে বঙ্গবন্ধু বেশিদিন খেলতে পারেননি। যদি খেলতেন তিনি চলি্লশ দশকে এশিয়ার অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হতে পারতেন।' বঙ্গবন্ধু খেলতেন স্ট্রাইকার পজিশনে। চলি্লশ দশকে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত এক জনপ্রিয় টুর্নামেন্টে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ওয়ান্ডারার্স অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। ওই ম্যাচে ফাইনালে ওয়ান্ডারার্স ৫-০ গোলে জয়ী হয়। তখনকার সত্তর মিনিটের ম্যাচে প্রথমার্ধেই বঙ্গবন্ধুর দেওয়া অসাধারণ ২ গোলে ওয়াল্ডারার্স এগিয়ে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোল হয় তাঁর নিখুঁত পাসে। টুর্নামেন্টে সেরা ফুটবলারের পুরস্কার পান বঙ্গবন্ধু। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে প্রথমদিকে ৯ এবং পরে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন বঙ্গবন্ধু।



 



ফুটবল এবং অপরাপর খেলাধুলার প্রতি যে তাঁর প্রবল অনুরাগ ছিলো তা আরও ভালোভাবে বুঝা যায় নিজ সন্তান শেখ কামালকে খেলাধুলার সঙ্গে শুধু সম্পৃক্ত করা নয়, তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেও সহযোগিতা করা। আজকের জনপ্রিয় ক্লাব আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামাল হলেও মূল উৎসাহদাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু নিজে। আর এজন্যেই দেখা গেছে শেখ কামাল তার বন্ধু এবং ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে নিয়ে যখনই দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক রূপ দিতে কিছু করতে চেয়েছেন তখনই তা নির্বিবাদে সমর্থন দিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর বাবা ছিলেন তারকা ফুটবলার, যা অনুপ্রেরণা জোগায় দুই ছেলে শেখ কামাল ও শেখ জামালকে। কামাল ফুটবলে সেভাবে খ্যাতি না পেলেও ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক ও বাস্কেটবল খেলে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন ওয়ান্ডারার্সের তুখোড় ফুটবলার। ছেলে কামাল ছিলেন সেই দলের তারকা বাস্কেটবল খেলোয়াড়। ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে ওয়ান্ডারার্স লীগ জয়ের পেছনে কামালের অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে। মহসীন স্মৃতি ট্রফি জিতে কামালের নেতৃত্বে। ক্রিকেটে অফ স্পিনার হিসেবে সত্তর দশকে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ক্রীড়াঙ্গনে। খেলেছেন কলাবাগান ও আবাহনীতে। দেশের প্রতিষ্ঠিত ক্লাব ঢাকা আবাহনী ক্রীড়া চক্রের (বর্তমান আবাহনী লিমিটেড) প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামালই। ১৯৭২ সালে ক্রীড়াঙ্গনে এই ক্লাবের অভিষেক হলেও ফুটবল, ক্রিকেট ও হকিতে সর্বোচ্চ লীগ জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে।



 



শেখ জামালও খেলেছেন ফুটবল, অ্যাথলেটিক। ক্রীড়াঙ্গনে দুই ভাইয়ের ছিলো অসম্ভব রকম প্রতিযোগিতা। শেখ কামাল আবাহনী গড়ার পর শেখ জামাল ১৯৭৪ সালে ঐতিহ্যবাহী আজাদ স্পোর্টিংয়ের ফুটবলে শক্তিশালী দল গড়েন। জামালের ডাকে সাড়া দিয়ে অসংখ্য তারকা ফুটবলার সেবার যোগ দিয়েছিলেন আজাদে। শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল খুকু ছিলেন দেশের খ্যাতনামা অ্যাথলেট। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান অলিম্পিক গেমসে লংজাম্পে নতুন রেকর্ড গড়ে সোনার পদক জেতেন সুলতানা। ১৯৭০ সালে অল পাকিস্তান অ্যাথলেটিকসে লংজাম্পে চ্যাম্পিয়ন হন সুলতানা। তখনও সুলতানা বঙ্গবন্ধুর পুত্রবধূ হননি। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার হার্ডলসে সোনা জেতেন সুলতানা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাথলেটিকসে প্রথম নারী বস্নু পাওয়ার কৃতিত্ব সুলতানারই।



 



বঙ্গবন্ধু নিজে ছিলেন খ্যাতনামা ফুটবলার। দুই ছেলে কামাল ও জামাল এবং পুত্রবধূ সুলতানাও ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ। পৃথিবীতে এক পরিবারের বাপ-ছেলের খেলোয়াড় হওয়া নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু কোনো দেশের স্থপতি বা জাতির জনকের এক পরিবারে এতোজন খেলাধুলার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন_এই রেকর্ড শুধু বঙ্গবন্ধু পরিবারেরই।



 



স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টুর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি জানালেন, 'ফুটবলার পিন্টু হিসেবে দেশজুড়ে যে পরিচয়টা পেয়েছি তার পেছনে বড় অবদান বঙ্গবন্ধুরই। সোজা কথা বলবো আমি ফুটবলার হতে পেরেছি বঙ্গবন্ধুর কারণেই। ১৯৫৬ সালে আমি তখন পিরোজপুরে নবম শ্রেণিতে পড়ি। বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন রাজনৈতিক সফরে। আমিই তখন বঙ্গবন্ধুর কাছে অনুরোধ করি আপনি যখন এসেছেন আমাদের একটা ম্যাচ দেখে যেতে হবে।' বঙ্গবন্ধু বললেন, 'ঠিক আছে তোরা খেলার ব্যবস্থা কর।' পিন্টু সেই মধুর স্মৃতিচারণে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে প্রধান অতিথি করে আমরা স্কুলে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করি। আমি ছিলাম স্কুল দলের ক্যাপ্টেন। প্রতিপক্ষ অফিসার্স ক্লাবের অধিনায়ক ছিলেন আমার বাবা ডাঃ নজিব উদ্দিন আহমেদ। বঙ্গবন্ধু দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হয়েই বললেন, দেখি বাপ-বেটার লড়াইয়ে কে জিতে? ম্যাচে আমারই দেওয়া ২ গোলে স্কুল দল চ্যাম্পিয়ন হয়। পুরস্কার দেওয়ার আগে বাবাকে কাছে ডেকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু বললেন, আগে আমাকে কথা দিতে হবে। তারপর পুরস্কার দেবো। বঙ্গবন্ধু বললেন, 'আপনি আপনার ছেলেকে চিকিৎসক করতে চান। আমি বলবো চিকিৎসক না হয়ে পিন্টুকে ফুটবল খেলতে দিন। আমি নিশ্চিত ও একদিন দেশের নামকরা ফুটবলার হবে।' বাবা বঙ্গবন্ধুকে কথা দিলেন আপনি যা চাইছেন তাই হবে। পিন্টু জানালেন, '১৯৭৩ সালে মারদেকা গোল্ডকাপ খেলতে মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে গণভবনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাই। সেখানে আমাকে দেখেই বললেন কিরে পিন্টু বলেছিলাম না তুই নামকরা ফুটবলার হবি। দেখলিতো তুই হয়ে গেলি বাংলাদেশ দলের প্রথম অধিনায়ক। বঙ্গবন্ধুর সেই কথা এখনো কানে বাজে। একজন মহান নেতা ফুটবলকে যে কতটা ভালোবাসতেন তা বলে শেষ করতে পারবো না। কি খেলাপাগল পরিবার, নিজে ছিলেন ফুটবলার। দুই ছেলে খেলেছেন। পুত্রবধূ ছিলেন খ্যাতনামা অ্যাথলেট। তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও খেলা-পাগল।'



 



প্রাক্তন ফুটবলার শেখ আশরাফ আলী আরেকটি চমকে দেয়ার মতো তথ্যের যোগান দেন। বলেন, 'বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ এবং শেখ মুজিব এই দুটি নাম সমার্থক হয়ে গিয়েছিলো। বাইরের অনেক দেশের মানুষ বাংলাদেশের নাম ঠিকমতো না জানলেও কেবলই নেতা শেখ মুজিবের নাম জানতো। আর এ কারণেই দেখেছি ১৯৭৩ সালে প্রথম যেদিন আমরা কুয়ালালামপুর স্টেডিয়ামে খেলতে নামি সেদিন স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আর শেখ মুজিব বলে চিৎকার করছে। সে ছিলো এক অপূর্ব দৃশ্য। সদ্য স্বাধীন দেশ আর সেই দেশের নেতাকে সেদিন স্টেডিয়ামে আসা সাধারণ দর্শকরা যেভাবে অভিনন্দিত করেছিলো তা ভোলার নয়। আসলে বঙ্গবন্ধু নামটি এমনই_'যার অস্তিত্ব শুধু রাজনৈতিক ময়দান নয়, দেশের বাইরের ফুটবল ময়দানেও স্বচক্ষে দেখেছি।' মানুষটি অসম্ভব রকম অনুপ্রেরণাদায়ক ছিলো।



 



স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ক্রীড়াপ্রেমী। ক্রীড়া বিশ্বে বাংলাদেশ আজ আপন মহিমায় এগিয়ে চলছে। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, দাবা, কাবাডি, গলফ, ভলিবল, জুডো-কারাতেসহ সব খেলাই বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা সাফল্য অর্জন করছে। ক্রিকেটে বাংলাদেশ ক্রিকেট পরাশক্তিদের মাটিতে নামিয়ে আসছে অনায়াসে। স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে ফুটবলার ছিলেন বলে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কমতি যে ছিলো তা কিন্তু নয়। ক্রিকেটের প্রতি ছিলো অগাধ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার তাগিদে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড গঠন করেন_যা বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নামে পরিচিত। দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণের জন্যে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। যা এখন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। এটি বাংলাদেশ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাধীন ৪৪টি ভিন্ন ভিন্ন খেলাধুলা বিষয়ক সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সংক্ষেপে বাফুফে, বাংলাদেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এটি। বাফুফের যাত্রাও শুরু হয়েছে ১৯৭২ সালে। ক্রীড়াপ্রেমী বলেই সব খেলার প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুর্বলতা ছিলো।



 



স্বাধীনতার পর দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর আন্তরিকতার কমতি ছিলো না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের অনুপ্রেরণা আর আন্তরিক সহযোগিতায় স্বাধীন বাংলাদেশে ফুটবল মাঠে গড়ায় মাত্র দু মাসের ব্যবধানে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তারকা ফুটবলারদের সমন্বয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ একাদশ ও রাষ্ট্রপতি একাদশের মধ্যে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালের মে মাসে ঢাকায় খেলতে আসে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা দল কলকাতা মোহনবাগান। প্রথম ম্যাচে কলকাতা মোহনবাগান ঢাকা মোহামেডানকে হারালেও পরের ম্যাচে হোঁচট খায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় ম্যাচে মোহনবাগান ঢাকা একাদশের মোকাবিলা করে। খেলার আগে ঢাকা একাদশের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেছিলেন জাতির পিতা। ম্যাচের দিন প্রধান অতিথি হিসেবে মাঠে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের মনোবল চাঙ্গা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে সেদিন দুর্দান্ত এক জয় উপহার দিয়েছিলেন ফুটবলারা। ঢাকা একাদশ মোহনবাগানকে ১-০ গোলে হারিয়েছিলো। ঢাকা একাদশের পক্ষে সেদিন জয়সূচক গোলটি করেছিলেন কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে খেলতে আসে রাশিয়ার মিন্সক ডায়নামো ক্লাব। ফুটবলপ্রেমী ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে নিয়ে ভিআইপি গ্যালারিতে বসে ঢাকা একাদশ এবং রাশিয়ার মিন্সক ডায়নামো ক্লাবের খেলা উপভোগ করেন। ১৯৭৫ সালে মালয়েশিয়ার মারদেকা ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়েছিলো ফুটবল দল। খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতেই জাতির পিতা প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান জাতীয় দলের বিদায়ক্ষণে গণভবনে ডেকেছিলেন। খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা না থাকলে এমনটি সম্ভব নয়। দলের সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ছবিও তুলেছিলেন তিনি।



 



বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সময় পেলেই ব্যাডমিন্টন খেলেন। বাবার অনুপ্রেরণায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বিশ্বদরবারে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। দেশের সকল খেলার উন্নয়নে বাবার অনুকরণে কাজ করে যাচ্ছেন। খেলোয়াড়দের পাশে রয়েছেন। মাঠে থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ প্রদান করছেন। ভালো খেলার স্বীকৃতি হিসেবে খেলোয়াড়দের পুরস্কৃতও করে চলছেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গনও বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলছে। ক্রীড়ামোদী বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ক্রীড়া পরিবারের মর্যাদা দিয়ে বঙ্গবন্ধু কিংবা বঙ্গবন্ধুর বাবা-মায়ের নামে সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা খেলার আয়োজন করে চলছেন। যার মাঝে বেঁচে আছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।



 



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২-সূরা বাকারা


২৮৬ আয়াত, ৪০ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৬৮। তাহারা বলিল, আমাদের জন্য তোমার প্রতিপালককে স্পষ্টভাবে জানাইয়া দিতে বল উহা কিরূপ? মূসা বলিল, 'আল্লাহ বলিতেছেন, উহা এমন গরু যাহা বৃদ্ধও নহে, অল্পবয়স্কও নহে-মধ্যবয়সী। সুতরাং তোমরা যাহা আদিষ্ট হইয়াছ তাহা করো।'


 


 


 


অপ্রয়োজনে প্রকৃতি কিছুই সৃষ্টি করে না। _শংকর।


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৭,৫১,৬৫৯ ১৬,৮০,১৩,৪১৫
সুস্থ ৭,৩২,৮১০ ১৪,৯৩,৫৬,৭৪৮
মৃত্যু ১২,৪৪১ ৩৪,৮৮,২৩৭
দেশ ২০০ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৮৫৬৮৯০
পুরোন সংখ্যা