চাঁদপুর, শুক্রবার ১৭ জুলাই ২০১৫ | ২ শ্রাবন ১৪২২ | ২৯ রমজান ১৪৩৬
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
রাজন ও আমাদের মনুষ্যত্ব
মুহাম্মাদ রেজাউল করিম
১৭ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

'এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না/ এই বিস্তীর্ণ শ্মশান আমার দেশ না/ এই রক্তস্নাত কসাইখানা আমার দেশ না।' কবি নবারুণ ভট্টাচার্যের মতো, যে দেশে রাজনরা বাঁচে না সে দেশ আমার নয়, যে দেশ একজন তেরো বছরের শিশুকে পাশবিক নির্যাতন থেকে বাঁচাতে পারে না, সে দেশ কখনই আমার হতে পারে না, অসহায় রাজনকে বাঁচানোর জন্য যখন একজন মানুষও এগিয়ে আসে না তখন এই অভিশপ্ত জাতি থেকে নিজের পরিচয় মুছে ফেলতে আমার এতটুকুও দ্বিধা হয় না। দেশ মধ্যম আয়ে পেঁৗছে গেছে, কিন্তু মানুষের মনুষ্যত্ব নিম্ন থেকে নিম্নতর। অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির উপর ভর করে দেশ চলে আর মনুষ্যত্বের উপর ভর করে মানুষ চলে। অর্থনীতি থেমে গেলে, দেশ ঠেকে যায় আর মনুষ্যত্ব হারিয়ে গেলে মানুষ পশু বনে যায়।

রাজন সত্যিকার অর্থে চোর ছিল কি ছিল না সেটা বিচার হওয়ার আগেই নরপশুদের হাতে পাশবিকভাবে খুন হতে হলো। অতএব হে নরপশুরা! অপ্রমাণিত চুরিতে যদি রাজনকে পাশবিক মৃত্যুবরণ করতে হয় তবে পদ্মা সেতুসহ শেয়ার বাজারের বড় বড় চোরদের শাস্তি কী হওয়া উচিত ছিলো? এই দেশে যারা শক্তিধর তাদের কোনো শাস্তি নেই, তাদের সাত খুন মাফ আর পান থেকে চুন খসলেই মৃত্যু নিশ্চিত অসহায় রাজনদের। কারণ এরা বলি না হলে, আত্মপূজা হয় না মনুষ্যত্বহীন মানুষদের। যাদেরকে ধরবার ক্ষমতা নেই, তাদের জন্যে বউকে মেরে ঝি কে শিখানোর ফর্মুলা মন্দ নয় আর তাইতো রাজনরা জল্লাদের এই কসাইখানায় বলি হয় রোজ। এই রাজন একজন নয়, এই রাজন হাজারো, এই রাজন লাখো বা তার চেয়ে অধিক। প্রতিনিয়ত এই রাজনরা অত্যাচারের শিকার হচ্ছে। দরিদ্র এই দেশের দরিদ্রতার অভিশাপ ঘোচাতে গিয়ে অকালেই প্রাণ হারাতে হয় রাজনদের। রাজনের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জীবনের নিরাপত্তা দানে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে, সেই ব্যর্থ রাষ্ট্রে রাজনরা বাঁচে না। এই দেশে আইন হয়, সংসদে বিল পাস হয় কিন্তু পারতপক্ষে সেই আইনের সুফল জনতা কতটুকু পায় সেটাই মুখ্য প্রশ্ন। যেমনি ভাবে ২০১৩ সালে পাস হওয়া শিশু আইনে বলা হয়েছে, 'কোন ব্যক্তি যদি তার দায়িত্বে থাকা কোন শিশুকে আঘাত, উৎপীড়ন বা অবহেলা করেন তাহলে ঐ ব্যক্তি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানার অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।' কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। এক জরিপে বলা হয়েছে, মাত্র এক বছরেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে প্রায় দশ লাখ শিশু। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, নির্যাতনকারী কারোই তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য বিচার হয়নি। শিশু আইন বিল ২০১৩ তে আছে, '১৮ বছরের কম বয়সীদেরকে শিশু বলে গণ্য করা হয়েছে এবং ঝুঁকি রয়েছে এমন কাজে এদেরকে নিয়োগ করা যাবে না।' কিন্তু পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থার জরিপ ২০১২ অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে এমন ৪৫ ধরনের কাজের মধ্যে ৪১ ধরনের কাজেই শিশুরা অংশ নিচ্ছে। বর্তমানে মোট শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ৭৯ লাখ। গত পাঁচ বছরে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে ১০ লাখেরও বেশি। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু মৃত্যুর হারও নেহাত কম নয়। নানা অত্যাচার আর অনাচারে শিশুদের কোমল প্রাণ নাশ হচ্ছে। এক জরিপে বলা হয়, গত দশ বছরে শুধু মাত্র বাসায় কাজ করতে গিয়েই নিহত হয়েছে প্রায় ৩৯৮ জন শিশু। অপরাধীদের মধ্যে যারা বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন তাদের অনেকেই আবার আইনের নানা ফাঁক ফোঁকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। অথচ গরিব-অত্যাচারিতরা চিরকালই অসহায়, চিরকালই আইনের মারপ্যাঁচে আটকে পড়েন। এরা অপরাধ না করেও অপরাধী, এরা চুরি না করেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী।

এদেশে এক দিকে আইন হয়, অন্যদিকে আইনকে পায়ে মাড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা মানুষের মধ্যে বিরাজমান। এদেশে দলিলপত্রের আইন আর বাস্তবতার আইন কখনো এক নয়, দুটো সম্পূর্ণই আলাদা বিষয়। এদেশে ক্ষমতাহীন আর ক্ষমতাবানদের মধ্যে আইনের পার্থক্য ও বৈষম্য রয়েছে। এক আইনের দ্বৈত নীতি এই রাষ্ট্রের আইন সিদ্ধ বৈশিষ্ট্য। তাইতো আইনকে নিজের মতো করে ব্যবহার করার মানসিকতায় ক্ষমতাবানদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রাষ্ট্রে সিদ্ধ আইন না থাকলে অন্যায়কারীর সংখ্যা বাড়ে। রাষ্ট্রে অন্যায় বাড়লে মূল্যবোধ হারায়। মূল্যবোধ হারালে মনুষ্যত্ব মরে যায়। তখন মানুষ আর মানুষ থাকে না, মানুষ পশু হয়, মানুষ বর্বর হয়। তখন দেশও আর দেশ থাকে না, দেশও বর্বর হয়। আর বর্বর দেশে কোমলমতি রাজনদের বাঁচার অধিকার নেই। অধিকারহীন রাষ্ট্রে রাজনদের অধিকারের কথা বলাটাও অন্যায়।

রাজনরা এভাবে করে মৃত্যুকে সয়ে নিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে, মানুষ আর পশুতে তেমন কোনো তফাৎ নেই। শুধু মাত্র একজন রাজনের চিত্র দেখে সারা দেশ কেঁপেছে, কিন্তু এই রকম হাজারো রাজন, হাজারো আদুরি, হাজারো সালেহা, হাজারো রহিমা, হাজারো রুবি'রা দিন দিন অনাদরে, অনাহারে অন্যের হাতে নিঃশেষ হচ্ছে, সে রিপোর্ট কে জানে? আমরা ততটুকুই জানি যতটুকু প্রকাশ পায়। গরিবের ঘরে জন্ম নেওয়া দুমুঠো ভাতের জন্য যেসব শিশু জীবিকায় যায়, তাদের প্রতি এই রকম হিংস্্র আচরণ যাদের তারা আর যাই হোক অন্তত মানুষ নয়, এটা নিশ্চিত। রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে আর যেন কোন রাজন এভাবে প্রাণ না হারায়। শুধু রাষ্ট্রই নয়, শিশুদের প্রতি মানুষের এ রকম নিষ্ঠুর আচরণ বন্ধ করতে হবে। এদের প্রতি প্রেম ও সহমর্মিতার হাত বাড়ালে, পৃথিবীকে এরাও আলোকিত করতে পারে।

মৃত্যুর বদলা মৃত্যু দিয়েই হয়। যত দ্রুত সম্ভব রাজনের হত্যাকরীদের ফাঁসি নিশ্চিত করা, এটা এখন সময়ের দাবি। যতদিন রাজনের হত্যাকারীদের ফাঁসি না হবে, ততদিন এই দেশ রাজনের আত্মার অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে না। ততদিন এই দেশকে আমি আমার দেশ বলে স্বীকার করতে কষ্ট হবে।

হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২০-সূরা : তা-হা


১৩৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহ্ নামে শুরু করছি।


 


৪৮। ‘আমাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করা হইয়াছে যে, শাস্তি তো তাহার জন্য, যে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরাইয়া লয়।’


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


আগে সময় সম্বন্ধে সচেতন হও, তারপর কাজ করো।


-সিন্ডেলা।


 


পরনিন্দাকারী বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না।


  - হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)


 

ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৭,৫১,৬৫৯ ১৬,৮০,১৩,৪১৫
সুস্থ ৭,৩২,৮১০ ১৪,৯৩,৫৬,৭৪৮
মৃত্যু ১২,৪৪১ ৩৪,৮৮,২৩৭
দেশ ২০০ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৮৫৪১৪৩
পুরোন সংখ্যা