চাঁদপুর, রোববার ৫ জানুয়ারি ২০২০, ২১ পৌষ ১৪২৬, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
চাঁদপুরে বৃষ্টিতে আলুর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত ॥ লোকসানের আশঙ্কায় কৃষকগণ হতাশ
কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
০৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুরে ২ দিনের টানা বৃষ্টিতে আলুর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলুর বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক। ফলে আলু উৎপাদনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হাজার হাজার টাকা ধার দেনা করে লোকসানের আশঙ্কায় কৃষকগণ হতাশ হয়ে পড়েছেন। অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষীদের স্বপ্ন বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে।



চাঁদপুর জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় ৩ হাজার ৭শ' ৯২ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। যদি রোববার ও সোমবার থেকে টানা রৌদ্র হয় তাহলে আলু বীজ কিছুটা রক্ষা হবে। তবে চাঁদপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, অঝোর ধারায় বৃষ্টি বন্ধ হলেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকবে আরো কয়েক দিন। এর পরেই আসবে শৈত্যপ্রবাহ। ফলে আলু চাষীদের জন্য কোন সুখবর নেই।



চাঁদপুর জেলায় এবার ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ২৪ হাজার ৫শ' মেট্রিক টন। চলতি শীত মৌসুমে জেলায় আলু চাষাবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাষাবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৬শ' ৯৫ হেক্টর জমিতে।



চাঁদপুর কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর জানান, চাঁদপুর সদরে এবার ১ হাজার ৮শ' হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ হয়েছে ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৮শ' মেঃ টন। মতলব উত্তরে ৮শ' হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭শ' মেঃ টন ।



মতলব দক্ষিণে ৩ হাজার ৫শ' হেক্টর জমিতে চাষাবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩ হাজার ৫শ' মেঃ টন । হাজীগঞ্জে ৯৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৯৫০ মেঃ টন। শাহারাস্তিতে ২৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২৫ মেঃ টন।



কচুয়ায় ৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ হাজার ৫শ' মেঃ টন। ফরিদগঞ্জে ১৪০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯৪০ মেঃ টন। হাইমচরে ১২৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬২৫ মেঃ টন।



সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মতলব উত্তর উপজেলার নিচু এলাকা। সেখানে ৮শ' হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ হয়েছে। পানির নিচে রয়েছে ৩শ' হেক্টর আলু।



এছাড়া চাঁদপুর জেলা সদরে ৩শ' হেক্টর জমির আলু পানির নীচে রয়েছে। এ বছর কচুয়া উপজেলায় ৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ করা হয়েছে।



অসময়ের বৃষ্টির পানি জমে রোপণকৃত আলুর বীজ ও প্রয়োগকৃত সার সবই বিনষ্ট হয়ে গেছে। কেবলমাত্র বীজই বিনষ্ট হয়েছে ৬ লাখ টাকার ওপর। এছাড়া ইরি বোরো ধানের বীজতলা, করলা, ধনিয়া, মূলা, লালশাক, মরিচ, লাউ, কুমড়া ইত্যাদি শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।



ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আলুর জমি থেকে পানি সরানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ২ দিনের টানা বৃষ্টিতে কৃষকের আলুর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পরপর ২ বছর আলু চাষে বৃষ্টির কারণে ধ্বস নেমেছিল। এ বছর আলু চাষে অধিক ফলন উৎপাদনের মাধ্যমে তা' পুষিয়ে নেবার কথা ছিলো। কিন্তু তাতে বাগড়া দিলো অকালের বৃষ্টি।



চাঁদপুর সদরের মহামায়া গ্রামের কৃষক আলী আক্কাস জানান, আমি ২ কানি (২শ' ৪০ শতাংশ) জমিতে আলু চাষ করেছি। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নিচু জমি। বৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই ঘুম নেই। জমিনের লাইনে লাইনে আছি। যদি আল্লাহ রক্ষা করে। এ কৃষক আরো জানান, গত বছর আলুর ভালো ফলন হয়েছিল কিন্তু আলু মাঠে থাকতেই বৃষ্টি সর্বনাশ করে দেয়। তার পরেও লাভ হয়েছে।



হাজীগঞ্জের কাজীরগাঁও মাঠে গেলে দেখা যায়, আলু ক্ষেতে ড্রেন করছেন কৃষক মোস্তফা কামাল। তিনি জানান, ৩ কানি আলু চাষ করেছি। সবগুলো আলু ক্ষেতেই পানির নিচে ড্রেন করে পানি বের করার চেষ্টা করছি। এ কৃষক অভিযোগ করেন, জমিতে আলু রোপন করেছি ১ মাস হয়েছে। এর মধ্যেই বৃষ্টি। কিন্তু কোনো কৃষি কর্মকর্তা বা তাদের প্রতিনিধি আমাদের পরামর্শ দিতে আসেনি।



এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মনি সূত্রধরের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি জানান, কাজীরগাঁও মাঠে রফিকুল ইসলাম নামে এক বস্নক সুপার ভাইজার অতিরিক্ত দায়িত্বে আছে। তবে তারা কে মাঠে যাচ্ছেনা আমি বিষয়টি দেখবো। অপর দিকে হাজীগঞ্জ উপজেলা ও চাঁদপুর সদর উপজেলার কোথাও কৃষকদের সহযোগিতার জন্য মাঠে সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (বস্নক সুপার ভাইজার)দের দেখা যায়নি।



 



চাঁদপুর খামার বাড়ি কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আবদুর রশিদ জানান, এ বছর আলু চাষের প্রথম মৌসুমে ২/৩ দিন বৃষ্টি হওয়ায় আলু বীজ রোপন কিছুটা দেরী হয়েছে। কোথাও গাছের চারা উঠেছে কোথাও এখনো উঠেনি। আবার কোথাও কোথাও এখনো আলু বীজ রোপন করছে।



তিনি বলেন, অঝোর ধারা টানা বৃষ্টিতে কৃষকরা সমস্যায় পড়বে। তিনি পরামর্শদেন যদ্দুর সম্ভব, জমিতে পানি নিস্কাষণের ব্যবস্থা রাখা। বিশেষ করে যেসব আলু বীজের গাছ বড় হয়েছে তারা অবশ্যই সেচ ব্যবস্থা রাখতে হবে। যদি দ্রুত সময়ে বৃষ্টি চলে যায়, তাহলে ভালো। আর যদি বৃষ্টি আরো কয়েক দিন থাকে তাহলে কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬০-সূরা মুমতাহিনা


১৩ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮। দীনের ব্যাপারে যাহারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নাই এবং তোমাদিগকে স্বদেশ হইতে বহিষ্কার করে নাই তাহাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায় বিচার করিতে আল্লাহ তোমাদিগকে নিষেধ করেন না। আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণদিগকে ভালোবাসেন।


 


 


ভীতুরাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাপে জড়িয়ে পড়ে। -উলিভার হারফোড।


 


 


পিতার আনন্দে খোদার আনন্দ এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে খোদার অসন্তুষ্টি।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৭,৫১,৬৫৯ ১৬,৮০,১৩,৪১৫
সুস্থ ৭,৩২,৮১০ ১৪,৯৩,৫৬,৭৪৮
মৃত্যু ১২,৪৪১ ৩৪,৮৮,২৩৭
দেশ ২০০ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮১৬৬৮০
পুরোন সংখ্যা